শীতকালীন ঘাস চাষ (পর্ব-২):ইপিল ইপিল চাষ

0
3678

শীতকালে যখন ঘাসের আকাল চলে সেখানে ,গবাদি পশুর জন্য খুব  উপাদেয় খাদ্য হল ইপিল ইপিল গাছের পাতা ও কচি ডগা।ইপিল-ইপিল গাছের আরেক নাম সুবাবুল ।এটি মুলত আমেরিকান প্রজাতি হলেও বর্তমানে  ভারতে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।

শীতকালে প্রকৃ্তিতে  ঘাসের প্রকট সংকট সৃষ্টি হয়।এই সময় খামারীদের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে ইপিল ইপিল।এই গাছের পাতা শুকিয়ে অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষন করে গবাদি পশুকে খাওয়ানো যায়।এছাড়া এ গাছের পাতা ও কঁচি ডগা খাওয়ালে গবাদিপশু ও পাখীর মাংস ,দুধ ও ডিমের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া এই গাছের আরো অনেক বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। এখন ভাবুন এই গাছ আপনার জন্য কতটা উপকারী!আসুন এবার জেনে নিই কিভাবে এটি চাষ করতে হবে।

ইপিল ইপিল চাষের জন্য কেমন জমি প্রয়োজন ?

রাস্তার ধারে, বাধের উপর,বাড়ির আশেপাশে অথবা সীমানা বরাবর অথবা যেখানে মন চাই সেখানে লাগাতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের শিখড় মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ থাকে। কারন স্বভাবগত ভাবে ইপিল ইপিল গাছের শিকড় মাটির গভীরে গিয়ে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করে।এই কারনে অধিক গরম পড়লেও গাছটি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে।কিন্তু কোন ভাবেই নিচু জমিতে এই ঘাস লাগানো উচিত নয়।কারন এই গাছটি জলবদ্ধতা একদম সহ্য করতে পারে না।

যে মাটিতে অম্লত্বের পরিমান বেশি সেই মাটিতে এই গাছ ভালো হয় না।তবে লবনাক্ততা কিছুটা সহ্য করতে পারে।এবার সিদ্ধান্ত আপনার, কোথায় লাগাবেন!

ইপিল ইপিল গাছের বীজ কখন কিভাবে সংগ্রহ করতে হয়?

ইপিল ইপিল গাছের বীজের খোলস বা পড যখন খয়েরী বা গাড় বাদামী রং ধারন করে সেই সময়টাই বীজ সংগ্রহ করার উপযুক্ত সময়।আরো নির্দিষ্ট করে বললে শীতের শুরুর দিক  নভেম্বর থেকে মার্চ এই সময়টাই ইপিল ইপিল বীজ সংগ্রহ করার সময়। যেহেতু ইপিল ইপিল বীজ গরম সহনীয় নয় সেহেতু এই গাছের বীজ সীম সহ সংগ্রহ করার পর শুকিয়ে শুস্ক ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হয়।ইপিল ইপিল বীজ এক সাথে না পাকার কারনে এই বীজ এক সাথে সংগ্রহ না করে অনেক দিন ধরে সংগ্রহ করতে হয়।

ইপিল ইপিল গাছের বীজ

কিভাবে বীজ শোধন, চারা প্রস্তুত এবং চারা  রোপণ করবেন?

বীজ শোধনের প্রাথমিক ধাপে বীজকে ৮০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট তাপমাএায় ৩মিনিট গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে কারণ এতে ইপিল ইপিল বীজের শক্ত আবরণ অনেকটা নমনীয় হয়ে আসে। পরবর্তীতে গরম পানি ফেলে দিয়ে কয়েকবার স্বাভাবিক ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব ছায়াতে শুকাতে কিংবা বপন করে ফেলতে হবে। এছাড়া অঙ্কুরোদগম দ্রুত করতে চাইলে বীজ বপনের পূর্বে ১২-২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা যায়।এভাবে বীজ তৈরী হয়ে গেলে এগুলোকে চারা তলায় পুততে হবে।

চারা প্রস্তুতকরনঃ

বীজ বপনকাল গ্রীষ্মকাল (মার্চ-এপ্রিল)। তৈরি বীজ বীজতলায় ১.২-১.৫সেঃ মিঃ মাটির নিচে ৫ সেঃমিঃ অন্তর অন্তর পুতে দিতে হবে।এছাড়া পলিথিন ব্যাগেও চারা তৈরী করা যায়,এক্ষেএে ৩ ইঞ্চি বাই ৭ইঞ্চি পলিথিন ব্যাগ হলে ভালো হয়।পলিথিন ব্যাগে হলে এক ব্যাগে দুটি বীজ দিতে হয় পরবর্তীতে চারা গজানোর পর ভালো চারাটি রেখে খারাপটি ফেলে দিতে হবে।বীজ বপনের ১০-১২ সপ্তাহ পরে চারা রোপনের উপযোগী হয়। এই সময় চারা ৮-১২ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।

চারা রোপনঃ

চারা রোপন বর্ষা মৌসুমে করতে  হয়।চারাগুলি ৮-১০ ফুট অন্তর অন্তর গর্ত করে লাগাতে হবে। উদ্দেশ্যের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে ইপিল ইপিল এর রোপণ পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।যেমন গবাদি পশুর খাদ্য ছাড়াও কেউ যদি একে বেড়া হিসেবে ব্যবহার করতে চাই, সেক্ষেএে বেড়া বরাবর ৩০ সেঃমিঃ/১ ফুট চওড়া করে কুপিয়ে লাইনে ঘন করে চারা রোপণ করতে হবে।

খাওয়ানোর নিয়মঃ

এ গাছের পাতাসহ কঁচি ডগা কেটে অন্য ঘাস বা খড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।তাছাড়া ইপিল ইপিল গাছ যখন দুই হতে আড়াই হাত লম্বা হয় তখন গরু/ছাগল চরায়ে বা কেটে খাওয়ানো যেতে পারে।

ফলনঃ

একক ভাবে ইপিল ইপিল চাষ করলে বছরে ৫-৬ বার কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করা যায় এবং অনেক বছর ফলন পাওয়া যায়। এভাবে একর প্রতি বছরে ২৪-৩২ টন কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়।

পুষ্টিমানঃ


সাধারন অবস্থায়

শুষ্ক পদার্থ ২৩.০%
প্রোটিন(C.P) ৫.৪%
ফাইবার(C.F) ৩.৬৮%
চর্বি(E.E) ১.৩৮%
খনিজ(Ash) ২.১৫%
বিপাকীয় শক্তি (কি.ক্যালরি/কেজি) ৬৮৭