খামারীদের জন্য সুখবর “প্রাণিসম্পদ খাতে প্রনোদনা”!

0
2147

              “কৃষি খাতে বিশেষ প্রনোদনামূলক পুর্নঃঅর্থায়ন স্কিম”

দেশব্যাপী চলমান করোনা (কোভিড ১৯) মহামারি প্রাণিসম্পদের সাথে জড়িত খামারী উৎপদক,সরবরাহকারী এবং উদ্যক্তাদের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলেছে।তাই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে খামারী/উৎপাদক/উদ্যোগতাদের সহজ শর্তে ঋণ সহাওতা প্রদানে উদ্যেশ্যে ৫,০০০ (০পাঁচ হাজার) কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কীম ঘোষনা করা হয়েছে।যার নাম দেওয়া হয়েছে “কৃষি খাতে বিশেষ প্রনোদনামূলক পুর্নঃঅর্থায়ন স্কিম”। প্রান্তিকসহসহ  পর্যায়ে খামারীদেরসহ সকলকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয় থেকে একটি নির্দেশনা ও জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ ঢাকাস্থ প্রদাহ্ন কার্যালয় হতে গত ১৩ এপ্রিল,২০২০ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ কার্যরত সক্ল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহঈ কর্মকর্তা/ব্যবস্থাপনা পরচালকদের উদ্যেশ্যে একটি সার্কুলার জারি করেন।এই সার্কুলারে নভেল করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবের কারানে কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবয়ারহের উদ্যেশ্যে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকার পূনঃ অর্থায়ন স্কীম গঠন ও পরিচালনার নীতিমালা প্রসঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

১. (ক)এ স্কীমের নাম হবে “কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কীম”; তহবিলের পরিমাণ হবে ৫,০০০.০০ (পাঁচ হাজার) কোটি টাকা।  বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে এ অর্থায়ন করা হবে;

(খ)   এ স্কীমের আওতায় পুনঃ অর্থায়ন গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যাংকসমূহকে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাথে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি (Participation Agreement) স্বাক্ষর করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাথে স্বাক্ষরিত অংশগ্রহণ চুক্তিপত্রের (Participation Agreement) মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকসমূহ এ স্কীমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এ স্কীমের আওতায় ব্যাংকসমূহ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ মেয়াদের মধ্যে গ্রাহকের অনূকুলে ঋণ বিতরণ পূর্বক মাসিক ভিত্তিতে পুন:অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে ।

(গ)   ব্যাংকসমূহের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং সক্ষমতার ভিত্তিতে কৃষি ঋণ বিভাগ কর্তৃক ব্যাংকসমূহের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দ করা হবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের পর বরাদ্দকৃত তহবিল হতে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দকৃত তহবিলের সমপরিমাণ অর্থায়ন করা হবে।

(ঘ)   ব্যাংকসমূহের বর্তমান গ্রাহকদের মধ্য হতে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকগণ বিদ্যমান ঋণ সুবিধার অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ এ স্কীমের আওতায় গ্রহণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে জামানতের/সহায়ক জামানতেরবিষয়ে ব্যাংক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া নতুন গ্রাহকগণের ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এর ভিত্তিতে নির্ধারণপূর্বক এ স্কীমের আওতায় বিতরণ করতে পারবে।তবে এ স্কীমের আওতায় গৃহীত ঋণ কোনভাবেই গ্রাহকের পুরাতন ঋণ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

(ঙ)   ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বিদ্যমান কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় (বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন) বর্ণিত বিধিবিধানসমূহ অনুসরণপূর্বক ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আলোকে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করবে এবং প্রতিটি ঋণের জন্য পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করবে।

২. ঋণের মেয়াদ ঃ

(ক) অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ হতে অনধিক ১৮ মাসের (১২ মাস + গ্রেস পিরিয়ড ৬ মাস)মধ্যে আসল এবং সুদ (বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ১% সুদ হারে) পরিশোধ করবে।

খ) অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহের ন্যায় গ্রাহক পর্যায়েও ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে ১৮ মাস (৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ)।

৩. ঋণের সুদের হারঃ

(ক) এ স্কীমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংক হতে নির্ধারিত ১% সুদ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে।

(খ) গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪%। উক্ত সুদ হার চলমান গ্রাহক এবং নতুন গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রেই প্ের যাজ্য হবে।

৪.    ঋণ বিতরণের খাতঃ

শস্য ও ফসল খাত ব্যতীত কৃষির অন্যান্য চলতি মূলধন নির্ভরশীল খাতসমূহ (যথাঃ হর্টিকালচার অর্থাৎ মৌসুম ভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রানিসম্পদ খাত) ; তবে, কোনো একক খাতে ব্যাংকের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঋণের ৩০% এর অধিক ঋণ বিতরণ করতে পারবেনা। এছাড়াও, যে সকল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কৃষক কর্তৃক উৎপাদিত কৃষিপন্য ক্রয়পূর্বক সরাসরি বিক্রয় করে থাকে তাদেরকেও এ স্কীমের আওতায় ঋণ বিতরণের জন্য বিবেচনাকরা যাবে। তবে, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে ৫.০০ (পাঁচ) কোটি টাকার উর্দ্ধে ঋণ বিতরণ করতে পারবে না;

৫.    পুনঃঅর্থায়ন আবেদন পদ্ধতিঃ

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পুনঃঅর্থায়ন প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত প্রয়োজনীয় তথ্য/কাগজপত্রসহ মাসিক ভিত্তিতে মহাব্যবস্থাপক, কৃষি ঋণ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিকট পুনঃঅর্থায়ন দাবি করবেঃ

i)প্রকৃত বিতরণ সংক্রান্ত সনদপত্র,

ii)বিতরণকৃত ঋণের সমন্বিত বিবরণী(সংযুক্ত ছক মোতাবেক);

iii)ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতিপত্র (ডিপি নোট) ও লেটার অব কন্টিনিউটি;   – সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য।

৬. পরিশোধ পদ্ধতিঃ

(ক) বিভিন্ন দফায় ব্যাংকের অনুকূলে ছাড়কৃত অর্থ মেয়াদ পূর্তির মধ্যেইসুদসহ গৃহীত আসলের সমুদয় অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে ;

(খ)   গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণ আদায়ের সকল দায়-দায়িত্ব ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের ওপর ন্য¯ Í থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ আদায়ের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনাকে সম্পর্কিত করা যাবে না ;

(গ)   ঋণের বকেয়া নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোধিত না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে রক্ষিত চলতি হিসাব বিকলন করে তা আদায়/সমন্বয় করা হবে ;

(ঘ)   এ স্কীমের আওতায় প্রদত্ত ঋণের অর্থ বা এর কোন অংশের সদ্ব্যবহার হয়নি মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রতীয়মান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সে পরিমান অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২% হারে সুদসহএককালীন আদায় করা হবে।

৭. অন্যান্য শর্ত ঃ

(ক) বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট হতে তহবিলের প্রাপ্যতা সীমা বিবেচনা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণ বিতরণ করবে এবং ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করবে ;

(খ)   উক্ত ঋণের জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত বর্তমানে অনুসৃত অন্যান্য নীতিমালা যেমন জামানত, আবেদনপত্র গ্রহন ও প্রক্রিয়াকরনের সময়কাল, ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা নিরূপন, ঋণ বিতরণ, ঋণের সদ্ব্যবহার, তদারকি ও আদায় প্রক্রিয়া যথারীতি অনুসৃত হবে ;

(গ)   উপরোক্ত পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদার প্রেক্ষিতে ব্যাংক প্রয়োজনীয় তথ্য, কাগজপত্র এবং দলিলাদির কপি বাংলাদেশ ব্যাংককে সরবরাহ করবে।

(বাংলাদেশ  ব্যাংকের সার্কুলারটি হুবহু পেতে  এখানে ক্লিক করুন খানে ক্লিক করুন  )

খামারীদের সুবিধার্থে এবং প্রচারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাঙ্গকের ওয়েব সাইট থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।তাই ক্ষন গ্রহন এবং এ সমস্ত বিষয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গন্য হবে।এই পোষ্টের কোন তহত্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here