করোনা দূর্যোগ মোকাবলিায় প্রাণিসম্পদ খাতে প্রনোদনা কারা পাবেন এবং কিভাব পাবনে?

0
1892

                                 কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৯-২০

নভেল করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরার ফলে প্রাণিসম্পদ খাতের সাথে সংযুক্ত খামারী/উৎপাদ/পরিবেশক সহ সংশ্লিষ্টরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যাতে মুল্ধন সংকটে পড়তে না হয় সে জন্য সরকার ৫,০০০ কোটি টাকার প্রনোদনা স্কিম চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।এর ধারবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৫,০০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কীম গঠন ও পরিচালনার নীতি প্রসঙ্গে একটি সার্কুলার প্রকাশ করেন। এই সার্কুলারে এ স্কিমের নাম দেওয়া হয় “কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কীম” (বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন)এই সার্কুলারে সূচনা অংশের ১(চ) ভাগে বলা হয়েছে “ঋণ বিতরনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বিদ্যমান কৃষি ও পল্লী ঋন নীতিমালায় বর্নিত বিধিবিধানসমূহ অনুসরনপুর্বক ব্যাংকার গ্রাহক-গ্রাহক সম্পর্কের আলোকে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করবে এবং প্রতিটি ঋনের জন্য পৃথক হিসাব সংরক্ষন করবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ  কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন নীতিমালা  মধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতে ঋন গ্রহীতাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে।

ঋণ গ্রহীতা সনাক্তকরণ

ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণের আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড-এর ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষক সনাক্ত করবে। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের বিপরীতে মাত্র ১০ টাকা জমা গ্রহণপূর্বক খোলা একাউন্টধারী কষৃ কদের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পাশবই-এর ভিত্তিতেই প্রকৃত কৃষক সনাক্ত করা যেতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র আছে কিন্তু কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড নেই সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় স্কুল/কলেজের প্রধান শিক্ষক অথবা ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির দেওয়া প্রত্যয়নপত্রও প্রকৃত কৃষক সনাক্তকরণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। (অনুচ্ছদে ৫.০১)

ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা

কৃষি কাজে সরাসরি নিয়োজিত প্রকৃত কৃষকগণ কৃষি ঋণ প্রাপ্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকান্ডে জড়িতরাও কৃষি ও পল্লী ঋণের সংশ্লিষ্ট খাতে ঋণ সুবিধা পেতে পারেন। তবে, সাধারণভাবে খেলাপি ঋণ গ্রহীতাগণ নতুন ঋণ পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিসহ অন্যান্য কৃষকদেরকে সহজ পদ্ধতিতে একক/গ্রুপ ভিত্তিতে কৃষি ঋণ প্রদান করা যাবে।(অনুচ্ছদে ৫.০২)

আবেদনপত্র গ্রহণ, প্রাপ্তিস্বীকার ও বিবেচনা

গ্রাহকের আবেদনপত্রের প্রাপ্তি স্বীকার করতে হবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর ঋণ মঞ্জুরি ও বিতরণের মধ্যে সময়ের ব্যবধান যৌক্তিকীকরণ এবং গ্রাহকের কোনো অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত নিস্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে শস্য ও ফসল চাষের জন্য ঋণের আবেদন দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের আবেদন নিষ্পত্তিকরণের সময়সীমা হবে আবেদনপত্র জমার দিন হতে সর্বোচ্চ  ১০ কর্মদিবস। বাতিলকৃত আবেদনপত্রগুলো বাতিলের কারণ উল্লেখপূর্বক একটি ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল এবং স্ব- স্ব ব্যাংকের নিরীক্ষা দলের যাচাইয়ের জন্য ফাইলটি সংরক্ষণ করতে হবে।  ( অনুচ্ছেদ ৫.০৪)

আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ ফি/চার্জ

কৃষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাত্র ১০ টাকা প্রাথমিক জমার বিনিময়ে হিসাব খোলা  যাবে। অগ্রাধিকার প্রাপ্ত খাত হিসেবে কৃষক/গ্রাহক পর্যায়ে স্বল্প সুদে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকসমূহ কর্তৃক সকল প্রকার কৃষি ও পল্লী ঋণে নির্ধারিত সুদ ব্যতীত অন্য কোন নামে কোন প্রকার চার্জ, প্রসেসিং ফি/মনিটরিং ফি ইত্যাদি ধার্য করা যাবে না। এছাড়া, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যাংক-এমএফআই লিংকেজ/পার্টনারশীপের মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি কর্তৃক নির্ধারিত ফি/চার্জ ব্যতীত অন্য কোন ফি/চার্জ ধার্য করা যাবে না। (অনুচ্ছেদ ৫.০৫)

ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ এবং ব্যাংকের সাথে পার্টনারশীপের ভিত্তিতে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণকারী ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক নিম্ন লিখিত চার্জ ডকুমেন্ট ব্যতীত অন্য কোন চার্জ ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে নাঃ

  1. ডিপি নোট (১০ টাকা থেকে ৫০ টাকার স্ট্যাম্প/সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক)
  2. লেটার অব হাইপোথিকেশন (স্ট্যাম্প প্রয়োজন নেই)
  3. লেটার অব গ্যারান্টি ব্যক্তিগত (স্ট্যাম্প প্রয়োজন নেই)

জামানত

ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে জামানত গ্রহণ করা/না করার বিষয়টি ব্যাংক/অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমহূ নিজের প্রচলিত শর্তে ব্যাংক-গ্রাহক স¤পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে। কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতায় আয়-উৎসারী কর্মকান্ডে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রুপ/ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। (অনুচ্ছেদ ৫.০৮)

ঋণ বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত এলাকা

‘লীড ব্যাংক’ পদ্ধতির আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাসমূহ তাদের অনকুূলে বরাদ্দকৃত ইউনিয়নসমূহে ফসলসহ কৃষির বিভিন্ন খাতে ঋণ প্রদান করবে। তবে, অন্য ব্যাংক শাখার নামে বরাদ্দকৃত পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের কোন আগ্রহী আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট শাখার অনাপত্তিপত্র দাখিল সাপেক্ষে ঋণ প্রদান করা যাবে। এজন্য পার্শ¦বর্তী ব্যাংক শাখাসমূহের মধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের তালিকা বিনিময় করতে হবে। এছাড়া, বর্তমানে বেসরকারি ও বিদেশী ব্যাংকসহ বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলী ব্যাংকের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক হওয়ায় লীড ব্যাংক পদ্ধতির আওতায় যে ইউনিয়ন যে ব্যাংক শাখার অনুকূলে বরাদ্দকৃত সেই ব্যাংক শাখা হতে অনাপত্তিপত্র নিয়ে উক্ত এলাকায় বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকসমূহ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করবে। (অনুচ্ছেদ ৫.০৯)

কৃষি ঋণের প্রধান খাতে ঋণ বিতরণ

কৃষির প্রধান ৩টি খাতে (যথা-শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) অন্যান্য খাতের চেয়ে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। (অনুচ্ছেদ ৫.১৫)

কর্মসূচির আওতাভুক্ত খাত/উপখাতসমূহ

কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতাভুক্ত খাত/উপ-খাতসমূহ নিম্নরূপ ঃ (অনুচ্ছেদ ৬.০১)

ক)      শস্য/ফসল (ধান, গম, ডাল, তৈলবীজ ইত্যাদিসহ পরিশিষ্ট-ঙ তে উল্লিখিত সকল ফসল);

খ)       মৎস্য সম্পদ;

গ)       প্রাণিসম্পদ;

ঘ)       কৃষি যন্ত্রপাতি (ব্যবহারকারী পর্যায়ে প্রদত্ত ঋণ);

ঙ)       সেচ যন্ত্রপাতি (ব্যবহারকারী পর্যায়ে প্রদত্ত ঋণ);

চ)       বীজ উৎপাদন

ছ)       শস্যগুদাম ও বাজারজাতকরণ (শুধুমাত্র নিজস্ব উৎপাদিত ফসল গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ);

জ)      দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় উৎসারী কর্মকান্ড (পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির আয় উৎসারী কর্মকান্ড প্রদত্ত ঋণ);

ঝ)      অন্যান্য (ঋণ নিয়মাচারে উল্লিখিত হয়নি এমন অপ্রচলিত ফসল চাষ/কৃষিতে প্রদত্ত ঋণ)।

প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ প্রদান (অনুচ্ছেদ ৬.০৫)

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমানে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় মাংস ও দুগ্ধ সরবরাহের পরিমাণ অপ্রতুল। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের প্রাণিসম্পদ নীতিমালার বাস্তবায়ন ও উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যাংক/

আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রাণিসম্পদের প্রচলিত নিম্নবর্ণিত খাত/উপখাতসমূহে ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২০১৯-২০  অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচির অধীনে ব্যাংকগুলোর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ১০ শতাংশ প্রাণিসম্পদ খাতে বিতরণ করতে হবে। (অনুচ্ছেদ ৬.০৫)

গবাদি পশু (অনুচ্ছেদ ৬.০৫.১)

ক)      হালের বলদ, দুগ্ধ খামার স্থাপন, ছাগল/ভেড়ার খামার স্থাপন, গরু মোটাতাজাকরণ ইত্যাদিতে ঋণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ব্যাংক গ্রহণ করবে।

খ)       গরুর পাশাপাশি মহিষ পালন একটি লাভজনক খাত। গরুর মতো মহিষ হতেও দুধ ও মাংস পাওয়া যায়। পাশাপাশি হালচাষ এবং গ্রামীণ পরিবহণেও মহিষের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। পরিবেশগত এবং প্রথাগত কারণে বাংলাদেশের চরাঞ্চলসহ যে সকল এলাকায় মহিষ পালন লাভজনক সে সকল এলাকায় মহিষ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

গ)       ব্যাংকের নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অফিসার বা একজন ভেটেরিনারী চিকিৎসক কর্তৃক সময়ে সময়ে গরু/ছাগলের খামার পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রাহকদের ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

উপর্যুক্ত খাতসমূহে ঋণ প্রদানের জন্য ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এবং প্রয়োজনবোধে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দুগ্ধ উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কীম ( অনুচ্ছেদ ৬.০৫.২)

দেশের বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ গুঁড়াদুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রীর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ার্থে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে গাভী লালন-পালন এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংকর জাতের গাভীপালনের জন্য ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত নবায়ন/আবর্তনযোগ্য (জবাড়ষারহম) ২০০.০০ (দুইশত) কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কীম গঠন করা হয়। এ স্কীমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার সর্বোচ্চ ৪%। ব্যাংক/বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে সুদ ক্ষতি/ভর্তুকি বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট অতিরিক্ত ৫% দাবী করতে পারবে। এছাড়া, অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ব্যাংক রেটে (বর্তমানে ৫%, যা পরিবর্তনশীল) পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাথে স্বাক্ষরিত অংশগ্রহণ চুক্তিপত্রের আওতায় সরকারী ও বেসরকারী খাতের ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ স্কীমের আওতায় সমুদয় অর্থ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ সম্পন্ন করেছে।

পোলট্রি খাত (অনুচ্ছেদ ৬.০৫.৩)

ডিম ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রোটিন ঘাটতি পূরণে পোলট্রি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নেয়া পোলট্রি শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড এবং ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ কর্মকান্ড কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে ডিম ও মাংসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহের পরিমাণ অপ্রতুল। পোলট্রি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সরকারের প্রাণিসম্পদ নীতিমালার বাস্তবায়ন ও উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রাণিসম্পদের প্রচলিত নিম্নবর্ণিত খাত/উপখাতসমূহে ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ঃ

ক)      হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন এবং হাঁ স-মুরগির খাদ্য, টিকা, ঔষধপত্র μয় ইত্যাদি খাতে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া কোয়েল, খরগোশ, গিনিপিগ ইত্যাদির বিভিন্ন লাভজনক খামার স্থাপনের জন্য ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। পোলট্রি খাতে ঋণ প্রদানের কার্যμম একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভ‚ত না রেখে ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ খাতে ঋণ প্রদানের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা যেতে পারে।

খ)       পরিবেশগত এবং প্রথাগত কারণে বাংলাদেশের বিল এবং জলা এলাকাসহ যে সকল এলাকায় পারিবারিক উদ্যোগে হাঁস পালন লাভজনক সে সকল এলাকায় হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

গ)       পোলট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে।

উপর্যুক্ত খাতসমূহের মধ্যে ব্রয়লার এবং লেয়ার মুরগি পালনে ঋণ প্রদানের জন্য ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি  ব্যাংক ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুসরণের জন্য এতদ্সঙ্গে সংযুক্ত করা হলো। অন্যান্য খাতসমূহে ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি নির্ধারণে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এবং প্রয়োজনবোধে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

টার্কি পাখি পালনে ঋণ প্রদান ( অনুচ্ছেদ ৬.০৫.৪)

বাংলাদেশে টার্কি পাখি পালন μমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। টার্কি পাখি পালনের জন্য উন্নত অবকাঠামোর দরকার হয় না এবং তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় এদেশের মানুষ টার্কি পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং চর্বির আধিক্য কিছুটা কম হওয়ায় এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে খামার করে টার্কি পালনে লাভবান হচ্ছে খামারীরা। টার্কি পাখি পালন একদিকে যেমন গরু বা খাসির মাংসের বিকল্পরূপে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করছে অন্য দিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। টার্কি পাখি পালনের প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে সরকারের প্রাণিসম্পদ নীতিমালার বাস্তবায়ন ও উদ্দেশ্যও অর্জন করা সম্ভব। এলক্ষ্যে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে টার্কি পাখি পালনে নিম্নবর্ণিত খাতসমূহে ঋণ প্রদান করা যেতে পারেঃ

ক)      টার্কি বাচ্চা, ছোট আকারের খামারের জন্য (সর্বোচ্চ ১০০০ টি টার্কি পাখি পালনের জন্য) এবং খাদ্য, টিকা ও ঔষধপত্র  ইত্যাদি খাতে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

খ)       টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ কম, মাংস উৎপাদন ক্ষমতা বেশী ও ঝামেলাহীনভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় বিধায় দেশের সকল অঞ্চলে এ খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

গ)       টার্কি পালনে অন্যান্য পাখির তলু নায় রোগবালাই কম এবং খামারের ঝুঁকি কম হওয়ায় পারিবারিক উদ্যোগে টার্কি পালন খাতে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

উপর্যুক্ত খাতসমূহে ঋণ প্রদানের জন্য ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো  নিজেরাই এবং প্রয়োজনবোধে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ প্রদান (অনুছেদ৬.১৯.৫)

কৃষি ও পল্লী ঋণ সুবিধা বর্গাচাষিসহ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি আয় উৎসারী কর্মকান্ড ও দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য লাঘবকরণ কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকায় (যেমন- চর, হাওর, উপক‚লীয় এলাকা, পাহাড়ী অঞ্চল ইত্যাদি) কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। অনগ্রসর এলাকার কৃষকদের ঋণের ওপর সুদের হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ধার্য করা যেতে পারে।

নেপিয়ার ঘাস চাষে ঋণ প্রদান  (অনুচ্ছেদ৬.১৯.৯)

বর্তমানে দেশে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ঘাসের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাণিজ্যিকভাবে ঘাস উৎপাদন লাভজনক বিবেচিত হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে ঘাসের চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষে সফলতা লাভের জন্য এখাতে ব্যাংক ঋণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে লক্ষ্যে নেপিয়ার ঘাস চাষে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকসমূহ সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার অনুসারে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

 

প্রাণীসম্পদ উন্নয়নে বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচি ঃ খাত/উপখাত (পরিশিষ্ট ক)

২.২। প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন

ক) হালের গরু/মহিষ

খ) প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন

গরু মোটাতাজাকরণ

দুগ্ধ খামার

ছাগল/ভেড়ার খামার

গ)হাঁস/মুরগির খামার  (পোলট্রি)

ঘ)কেঁচো কম্পোস্ট সার ।

বাংলাদেশ  ব্যাংক কৃষি ঋন শাখা থেকে প্রকাশিত কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১৯-২০ হুবহু পেতে এখানে ক্লিক করুন

খামারীদের সুবিধার্থে এবং প্রচারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।তাই এ সমস্ত বিষয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গন্য হবে।এই পোষ্টের কোন তহত্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here